সরকারের নতুন ঋণ কর্মসূচির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে আইএমএফ

বাংলাদেশের পরিবর্তিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন একটি তিন বছর মেয়াদি ঋণ কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

২১ মে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে বিদ্যমান কর্মসূচির সংস্কার বাস্তবায়নে দেশের বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে একটি নতুন ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছে। আইএমএফ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান আইএমএফ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে ২১ মে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আইএমএফের অব্যাহত সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ব্যাংক ফান্ড অ্যানুয়াল মিটিংয়ে অনুষ্ঠিত ফলপ্রসূ আলোচনার কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর সরকার বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করেছে।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশ সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বর্তমান আইএমএফ কর্মসূচিটি ভিন্ন অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রেক্ষাপটে গ্রহণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত দেশীয় প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক অর্থনীতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সরকার সংস্কার থেকে সরে আসতে চায় না; বরং বাস্তবসম্মত, ধাপে ধাপে এবং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে আগ্রহী। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে একটি নতুন আইএমএফ কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়, যেখানে তিন বছরের একটি বাস্তবভিত্তিক সময়সীমার মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক ও বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।’

বৈঠকে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্ক বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রম ও নতুন কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের গঠনমূলক ও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষই বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য একটি নতুন আইএমএফ কর্মসূচি এবং এ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার বিষয়ে একমত পোষণ করে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের সভায় বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে বর্ধিত ঋণসহায়তা বা বর্ধিত তহবিল (ইসিএফ অ্যান্ড ইএফএফ) থেকে ৩৩০ কোটি ডলার এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় ১৪০ কোটি ডলার দেয়ার কথা ছিল। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঋণ কর্মসূচির আওতায় আরো বাড়তি অর্থ দেয়ার অনুরোধ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইএমএফের পর্ষদ বাংলাদেশের জন্য ইসিএফ অ্যান্ড ইএফএফের আওতায় মোট ৪১০ কোটি ডলার অনুমোদন করে। এর সঙ্গে আরএসএফের আওতায় ১৪০ কোটি ডলার মিলিয়ে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৫০ কোটি ডলারে। এর ফলে বাংলাদেশের ঋণ কর্মসূচির আকার বেড়েছে প্রায় ৮০ কোটি ডলার। প্রথমে ২০২৬ সালের মে মাম পর্যন্ত এ ঋণ কর্মসূচির মেয়াদ নির্ধারিত ছিল। তবে ঋণের আকার বাড়ার কারণে ইসিএফ অ্যান্ড ইএফএফের অধীনে এর মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে পাঁচ কিস্তিতে আইএমএফের কাছ থেকে ৩৬৩ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। ঋণের ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ গত বছরের ডিসেম্বরে ছাড় করার কথা ছিল। তবে ঋণ কর্মসূচির অধীনে শর্ত ও সংস্কার বাস্তবায়নের ধীর গতির কারণে এখনো পর্যন্ত ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় করেনি আইএমএফ।

আরও